ইমো হ্যাকিংয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র, টু-ফ্যাক্টর ভেরিফিকেশন চালুর পরামর্শ আইটি বিশেষজ্ঞের
৩০ জানুয়ারি ২০২৪ | চ্যানেল ২৪ | এ যেন কোনো সিনেমার গল্প। দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে পরিচালিত হচ্ছে অনলাইন প্রতারণার বিশাল নেটওয়ার্ক। মোবাইল ফোনে কৌশলে তথ্য সংগ্রহ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইমো (IMO) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, এ ধরনের প্রতারণার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে নাটোর জেলার কয়েকটি গ্রাম।
নাটোরের বিলমারিয়া গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী বিজয় ও রাজমিস্ত্রী কিরণ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইমো হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত ছিল। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, আশপাশের গ্রামের একটি সংঘবদ্ধ হ্যাকার চক্রের সহায়তায় তারা এই প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত হয়। প্রবাসীদের ইমো নম্বর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করত তারা।
তদন্তে জানা গেছে, প্রতারক চক্রটি এক থেকে দেড় হাজার টাকার বিনিময়ে ভুয়া পরিচয়ে নিবন্ধিত মোবাইল সিম সংগ্রহ করে। এরপর প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা অর্থ দেশের বিভিন্ন জেলার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে উত্তোলন করা হতো।
এমনই এক প্রতারণার শিকার হন মেহেরপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী নাজমুলের পরিবার। প্রতারকরা তার ইমো অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে স্ত্রী মাহাবুবার কাছে বার্তা পাঠায় যে, তার স্বামী পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং মুক্তির জন্য তিন লাখ টাকা প্রয়োজন। স্বামীর নিরাপত্তার কথা ভেবে মাহাবুবা ধাপে ধাপে মোট ৩ লাখ ১২ হাজার টাকা পাঠান। পরে স্বামীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে জানতে পারেন, তিনি নিরাপদে কর্মস্থলেই রয়েছেন এবং পুরো ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত প্রতারণা।
ভুক্তভোগী মাহাবুবা বলেন, “ওরা বারবার নতুন নম্বর দিয়ে আরও টাকা চাইতে থাকে। এভাবে দিতে দিতে ৩ লাখ ১২ হাজার টাকা হয়ে যায়। পরে আমার স্বামী ফোন দিলে জানতে পারি, তার কিছুই হয়নি। তখন বুঝতে পারি, ইমো হ্যাক করে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।”
মাহাবুবার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ বিজয় ও কিরণকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
মেহেরপুর ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রতারণার ঘটনায় জড়িত দুইজনকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও একজন সহযোগীর তথ্য দিয়েছে। তাকে আটক করা গেলে চক্রটির অন্য সদস্যদের সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।”
এ বিষয়ে আইটি বিশেষজ্ঞ মুন্সী জাহাঙ্গীর জিন্নাত হিরক বলেন, “আমি সবাইকে সর্বোচ্চ সুপারিশ করবো, যেন তারা ইমো অ্যাকাউন্টে ‘টু-ফ্যাক্টর স্টেপ ভেরিফিকেশন’ চালু করেন। পাশাপাশি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে অবশ্যই একটি সক্রিয় ই-মেইল ঠিকানা যুক্ত রাখবেন। এতে হ্যাকারদের জন্য অ্যাকাউন্ট দখল করা অনেক কঠিন হয়ে যাবে।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে শুধু মেহেরপুর জেলাতেই ইমো হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রতারক চক্র অন্তত ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পুলিশ বলছে, চক্রটির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অপরিচিত কারও অনুরোধে অর্থ লেনদেন না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
.png)
কোন মন্তব্য নেই: