মেহেরপুরে ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের ২৭১তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন


এপ্রিল ১০, ২০২৬, মেহেরপুর প্রতিদিন, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতির জনক স্যামুয়েল হ্যানিম্যান-এর ২৭১তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে মেহেরপুরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডা. মুন্সী মোজাম্মেল হক এবং সঞ্চালনা করেন ডা. মোঃ সাহারুল ইসলাম। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন ডা. মোঃ শহিদুল ইসলাম।


সভাপতির স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে মূল আলোচনা পর্ব শুরু হয়। অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন জেলা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক কল্যাণ সংঘের সাধারণ সম্পাদক ডা. মোঃ আবুল কাশেম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ডা. মোঃ মফিজুল ইসলাম, হোমিও ডাঃ মুন্সি জাহাঙ্গীর জিন্নাত, ডা. এ এইচ এম মান্নান, ডা. মোঃ খসরু আলম, ডা. মোঃ এম আর আলম, ডা. মোঃ হায়দার আলী এবং ডা. মুন্সী এ এইচ এম রাশেদুল হক।


বক্তারা স্যামুয়েল হ্যানিম্যান-এর জীবন, কর্ম ও মানবকল্যাণে তাঁর অবদানের ওপর আলোকপাত করেন। তারা বলেন, তিনি ১৭৫৫ সালের ১০ এপ্রিল জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতির সূচনা করেন। তাঁর উদ্ভাবিত নীতি — Similia Similibus Curentur, অর্থাৎ “সমরূপ দ্বারা সমরূপ নিরাময়”—চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসে, যা আজও বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।


আলোচনায় আরও উল্লেখ করা হয় যে, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি নিরাপদ, তুলনামূলকভাবে ব্যয় সাশ্রয়ী এবং সাধারণত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত হওয়ায় মানুষের মধ্যে এর গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে এই চিকিৎসা পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


বক্তারা হ্যানিম্যানের আদর্শ অনুসরণ করে রোগীদের সেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান এবং হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাকে আরও বিস্তৃত ও আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক, শিক্ষার্থী এবং হোমিওপ্যাথি অনুরাগীরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং বিশ্ব মানবতার কল্যাণে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।



কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.